আজ আবার একই চিন্তাটা ফিরে এলো।
আমি জানি আর আমি বিশ্বাস করি
—এই দুইটার মাঝখানে আমি আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি?
আগে মনে হতো, পৃথিবীটা খুব গোছানো।
- এক পাশে সত্য, আরেক পাশে ভুল।
- এক পাশে প্রমাণ, আরেক পাশে কল্পনা।
এখন আর তেমন লাগে না।
এখন মনে হয়, আমি একটা অন্ধকার ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে আছি। হাতে কিছু জিনিস আছে, আমি জানি ওগুলোর কিছু বাস্তব। আবার কিছু জিনিস আমি শুধু আঁকড়ে ধরেছি, কারণ ছাড়া ছাড়া হাতটা খালি লাগে।
আমি জানি আমার শরীর আছে। আমি জানি আমি চিন্তা করি। আমি জানি আমি একদিন ছিলাম না, আবার একদিন থাকব না।
এই “জানা”গুলো আমাকে শক্ত করে না, বরং একটু অস্বস্তি দেয়। কারণ এগুলো আমাকে খুব বাস্তব করে তোলে—এবং বাস্তবতা সবসময় সুন্দর না।
আমি যখন “আমি বিশ্বাস করি” বলি,
তখন ব্যাপারটা আর প্রমাণের ভেতরে থাকে না।
- আমি বিশ্বাস করি এই জীবনের কোনো অর্থ আছে।
- আমি বিশ্বাস করি ভালো আর মন্দ শুধু সামাজিক নিয়ম না।
- আমি বিশ্বাস করি আমার ভেতরের এই প্রশ্ন করার ক্ষমতাটারও কোনো মানে আছে।
কিন্তু আমি নিজেকেই প্রশ্ন করি—এই বিশ্বাস কি সত্যি, নাকি শুধু মানসিক প্রয়োজন?
কারণ খুব সৎভাবে বললে, আমি জানি না অর্থ আসলেই কোথাও আছে কি না। আমি শুধু দেখি, মানুষ অর্থ খোঁজে। আর আমি নিজেও খুঁজি।
কখনো মনে হয়, বিশ্বটা খুবই নিরপেক্ষ।
- না কোনো পরিকল্পনা, না কোনো উদ্দেশ্য।
- শুধু ঘটনা ঘটছে।
- জন্ম, মৃত্যু, দেখা, হারানো—সব কিছুই চলছে, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই।
এই ভাবনাটা ভয় ধরায় না, কিন্তু শূন্য করে দেয়। যেন আমি একটা বিশাল ব্যবস্থার মধ্যে আছি, যেটা আমাকে নিয়ে চিন্তাই করে না।
তবুও আমি থেমে যাই না।
কারণ আমার ভেতরে কিছু একটা এখনো প্রশ্ন করে—“তাহলে আমি কেন ভাবছি?” “এই সচেতনতা কোথা থেকে এলো?”
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নেই, তবুও প্রশ্নগুলো থামে না।
আমি বুঝতে পারছি, “আমি জানি” কথাটা খুব সীমিত। এটা শুধু তখনই কাজ করে, যখন পৃথিবী ছোট করে দেখা যায়।
কিন্তু আমি বড় করে দেখলে, আমি আসলে খুব কমই জানি।
আমি জানি আমি এখন আছি। বাকিটা নিয়ে আমি শুধু অনুমান করি।
আর সেই অনুমানগুলোকেই আমি কখনো বিশ্বাস বলি, কখনো আশা বলি, কখনো ভয় বলি।
ধর্ম, বিশ্বাস, দর্শন—এগুলো নিয়ে আমি এখন আর দ্রুত সিদ্ধান্তে যাই না। কারণ এখন বুঝি, এগুলো শুধু উত্তর না। এগুলো মানুষের নিজেকে সহ্য করার উপায়ও।
- কেউ অর্থ খুঁজে পায় ঈশ্বরে।
- কেউ খুঁজে পায় যুক্তিতে।
- কেউ আবার বলে—কিছুই নেই, তবুও বাঁচতে হবে।
আমি এখন বুঝি, সব পথই কোথাও না কোথাও একই জায়গায় এসে দাঁড়ায়—একটা অনিশ্চিত বাস্তবতা, যেটাকে কেউ পুরোপুরি ধরতে পারে না।
আমি এখন আর দাবি করতে চাই না যে আমি জানি। আমি শুধু স্বীকার করতে চাই—আমি সীমিত।
আর এই সীমাবদ্ধতার ভেতরেই আমি কিছু অর্থ তৈরি করার চেষ্টা করি।
হয়তো অর্থ সত্যি কোথাও নেই। হয়তো অর্থ আমরা বানিয়ে নিই, যেমন অন্ধকারে আলো দেখানোর জন্য আমরা নিজেরাই শিখা জ্বালাই।
যদি তাই হয়, তাহলে সেটাও মেনে নিতে হবে।
আজকে আমার কাছে “আমি জানি” খুব ছোট হয়ে গেছে। আর “আমি বিশ্বাস করি” এখন আর অন্ধ বিশ্বাস না—এটা একটা সচেতন ঝুঁকি।
আমি জানি না সবকিছুর মানে কী। কিন্তু আমি এখনো ভাবতে থামিনি। এবং হয়তো এটাই আমার একমাত্র সত্য।



